মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C

ড. শহীদুল্লাহ একাডেমী

 

গড়দুয়ারা ছিল একটি অনুন্নত গ্রাম। এই গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল অত্যন্ত নাজুক। তৎ সময়ে এলাকায় কোন মাধ্যামিক বিদ্যালয় ছিল না। হাতেগোনা অল্প কয়েকজন মেধাবী ও আগ্রহী ছাত্র পার্শ্ববর্তী মাদার্শা উচ্চ বিদ্যালয়, বিনাজুরী উচ্চ বিদ্যালয়, হাটহাজারী ও ফতেয়াবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষাঙ্গনে গিয়ে শিক্ষা অর্জন করত। মেয়েদের পক্ষে তা ছিল অত্যন্ত দুরুহ ও দুসাধ্য ব্যাপার। গড়দুয়ারাবাসীকে এমন অবস্থা থেকে পরিত্রানের লক্ষ্যে ১৯৬৪ সালে এলাকার শিক্ষানুরাগী কৃতি ব্যাক্তিত্ব মরহুম আলহাজ্ব জেবল আহমদ কন্ট্রাক্টার, মরহুম আলহাজ্ব ফজলুল হক চৌধুরী, মরহুম আলহাজ্ব আবদুল্লাহ-আল-ছগীর ও মরহুম আলহাজ্ব অধ্যাপক আহমদ হোসেন এর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ও এলাকাবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহন ও সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠিত হয় এ প্রাচীনতম বিদ্যাপীঠ।

উপমহাদেশের প্রখ্যাত ভাষাবিদ ও জ্ঞানতাপস ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ এর নামানুসারে এ প্রতিষ্টানটির নামকরণ করা হয়। গড়দুয়ার ইউনিয়নের প্রাণকেন্দ্রে প্রতিষ্টিত এ প্রতিষ্টানটি এলাকায় শিক্ষা বিস্তারে অনন্য ভূমিকা পালন করে আসছে। এ বিদ্যাপীঠ অসংখ্য শিক্ষার্থীকে দিয়েছে আধুনিক বিজ্ঞানমনস্ক, দেশপ্রেমিক , সুনাগরিক ও আদর্শবান প্রাণচঞ্চল কর্মমূখী মানুষ হয়ে গড়ে ওঠার দীক্ষা। তাছাড়া রচনা করেছে তাদের জীবন সংগ্রামে দৃঢ় প্রত্যয়ে এগিয়ে যাওয়ার মূল ভিত্তি। আগামী বছরে প্রতিষ্ঠানটির ৫০ বছর পূর্ণ হবে।

প্রাকৃতিক শোভায় গড়ে ওঠা এ শিক্ষা প্রতিষ্টানটি শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত পদচারণায় সদা মুখর হয়ে ওঠে। সুযোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকাদের শিক্ষাদানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আলোকিত মানুষরূপে গড়ে তোলার প্রচেষ্টা এই প্রতিষ্টানের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের জন্য হাউজ ভিত্তিক সহ-পাঠক্রমিক কার্যাবলী-খেলাধুলা, সাহিত্য-সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও বির্তক চালু আছে। বিদ্যালয়টিতে রয়েছে একটি সুসজ্জিত স্কাউট দল। শিক্ষার্থীদের সাথে সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে অভিভাবক এবং শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগের জন্য রয়েছে শিক্ষার্থী ডায়েরী। এতে অভিভাবকেরা সমমানের নিয়মিত উপস্থিতি ও লেখাপড়ার অগ্রগতি সর্ম্পকে সজাগ থাকে। জ্ঞানতাপস ড. মুহাম্মদ শহীদুলস্নাহ’র নামানুসারে প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানটি ক্রমাগত উন্নতি ও সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। উল্লেখ্য, এক সময় বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লার সুযোগ্য পুত্র আর্ন্তজাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শিল্পী ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের সাবেক অধ্যাপক মূর্তজা বশীর।

 

বর্তমানে বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণী পর্যন্ত ৪৯৭ জন শিক্ষার্থী, ১০ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা ও ৩ জন কর্মচারী রয়েছে। প্রায় ২.৫০ (আড়াই) একর জমি রয়েছে। বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হার সন্তোষজনক।